Latest Movie

Tuesday, June 27, 2017

ইশ্বৰৰ অস্তিত্ব আৰু ধৰ্ম সম্পৰ্কে নাস্তিকসকলৰ সাধাৰণ কিছু প্রশ্ন আৰু উত্তৰঃ


যতোদিন থেকে নেট ব্যবহার শুরু করেছি ততোদিন থেকেই ইশ্বরের অস্তিত্ব আর ধর্মসমুহ সম্পর্কে নাস্তিকদের অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছি। এগুলোর মাঝে অধিকাংশ নাস্তিক মুক্তমনাদের প্রশ্ন তালিকায় প্রথম সারিতে থাকে এমন কিছু সাধারণ প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর দেয়ার চেষ্টা করেছি।
#প্রশ্ন নং-১ ইশ্বরের অস্তিত্বের প্রমাণ কী?
উত্তর: ইশ্বরের অস্তিত্বের প্রমাণের কোন কমতি নেই। এই মহাবিশ্বের সমস্ত কিছুই তাঁর অস্তিত্বের সাক্ষ দেয় প্রতি মুহুর্তে। এখন হয়তো বলবেন এটা কেমন প্রমাণ?
ধরুন আপনি রাতের বেলা মেঘমুক্ত আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন। আকাশের নক্ষত্রগুলোর অস্তিত্ব সম্পর্কে কিভাবে নিশ্চিত হলেন? লক্ষ লক্ষ আলোকবর্স পেরিয়ে আসা ফোটন কণাসমুহ আপনার চোখে আছড়ে পরছে আর চোখ আপনার মস্তিষ্কে সিগনাল প্রেরণ করছে যাতে আপনার মস্তিষ্কে দেখার অনুভুতি সৃষ্টি করছে। অর্থাত্‍ নক্ষত্রগুলোর প্রমাণ বহন করছে সেগুলো থেকে ছুটে আসা ফোটন কণাসমুহ। এখানে নক্ষত্রগুলোর অস্তিত্বের পক্ষে যুক্তি একটিই হতে পারে যে যদি নক্ষত্রগুলো না থাকে তবে ফোটন কণাগুলো এলো কোথা থেকে। এখন কেউ যদি বলে যে ওগুলো নক্ষত্র নয় এবং দাবি করে যে শুন্য থেকে ফোটন কণিকাসমুহ সৃষ্টি হয়ে আমাদের চোখে পড়ছে তবে তাকেই প্রমাণ করে দেখাতে হবে যে ওগুলো নক্ষত্র নয়।
আমাদের এই মহাবিশ্ব একটি পরিবর্তনশীল জগত। এর একটি শুরু আছে শেষও আছে। এই মহাবিশ্বের সুচনার আদি কারণটি ঘটিয়েছেন যে সত্তা তিনিই ইশ্বর। এই মহাবিশ্বের সৃষ্টিতে, সুশৃঙ্খল এই মহাবিশ্বে এবং এর মাঝে প্রাণের বিকাশে সমস্ত কিছুর উপর নিয়ন্ত্রণক্ষম একজন সত্তার অস্তিত্বকে উপলব্ধি করা যায়। যেমনিভাবে নক্ষত্রসমুহ থেকে ছুটে আসা ফোটন কণাসমূহ নক্ষত্রগুলোর অস্তিত্বের প্রমাণ, ঠিক তেমনি ইশ্বরের সৃষ্ট এই মহাবিশ্ব ইশ্বরের অস্তিত্বের প্রমাণ বহন করে।
#প্রশ্ন নং -২ যদি ইশ্বর এই মহাবিশ্বকে সৃষ্টি করে থাকেন তবে ইশ্বরকে কে সৃষ্টি করল?
উত্তর: ইশ্বরকে কেউ সৃষ্টি করেননি। কারণ তিনি সৃষ্ট হননি। তিনি অনাদি অনন্ত।
এইক্ষেত্রে সাধারণত নাস্তিকরা প্রশ্ন করে থাকেন যে যদি ইশ্বর অনাদি অনন্ত হতে পারেন তবে মহাবিশ্বকে কেন অনাদি অনন্ত ধরে নেয়া যেতে পারে না?
মহাবিশ্ব অনাদি অনন্ত হতে পারে না কারণ অসীম কোন প্রাকৃতিক সংখ্যা নয়। সময় অসীম হতে পারে না। আর মহাবিশ্বের যে একটি শুরু আছে তা অনেক আগে প্রমাণিত হয়ে গেছে। বিগব্যাং থিওরি বলুন আর উইলিয়াম হাবল এর সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্ব তত্ত্ব বলুন, মহাবিশ্বের যে একটি শুরু আছে তা বৈজ্ঞানিক এবং দার্শনিক উভয়ভাবেই প্রমাণিত। তাই মহাবিশ্বকে আমরা অনাদি অনন্ত ভেবে নিতে পারি না।
#প্রশ্ন নং ৩- যদি ইশ্বরের অস্তিত্ব মেনেই নেই তাহলেও কিভাবে প্রতীয়মান হয় যে তিনিই ধর্মের প্রচার করিয়েছেন?
উত্তর: প্রথমে আমাদেরকে বুঝতে হবে ধর্ম বলতে কী বোঝায়। ধর্ম একটি সংস্কৃত শব্দ যার অর্থ ধারণ করা। ধর্ম বলতে সাধারণত কোন কিছুর নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যকে বোঝায়। এই মহাবিশ্বের সবকিছুরই নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। যেমন অক্সিজেনের বৈশিষ্ট্য দহন বিক্রিয়ায় অংশ নিয়ে আগুন জ্বালানো, ধাতুর ধর্ম নমনীয়তা, ইলেক্ট্রনের ধর্ম নিউক্লিয়াসকে প্রদক্ষিন করা। শুধু জড়ো পদার্থ নয় প্রত্যেকটি জীবের একটি নির্দিষ্ট ধর্ম রয়েছে। সবকিছুর ধর্ম ইশ্বরই নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন।
মানুষেরও একটি নির্দিষ্ট ধর্ম রয়েছে। তবে অন্যান্য জীব এবং মানুষের মাঝে পার্থক্য হল এই যে অন্যান্য জীবগুলো তাদের নিজ ধর্মটিকে প্রত্যাখ্যান করতে পারে না, একমাত্র মানুষই তার নিজ ধর্মকে প্রত্যাখ্যান করতে পারে। আসলে মানুষের নিজেরই জানা নেই তার ধর্মটি কী। মানুষকে যদি তার নিজ ধর্ম সম্পর্কে জানিয়ে দেয়া না হয় তবে তা মানবজাতীর প্রতি অবিচার করা হবে। এজন্য ইশ্বর মানুষকে জানিয়ে দিতে চান মানবধর্ম সম্পর্কে। এজন্য তিনি যুগে যুগে তার নির্বাচিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে মানুষকে জানিয়েছেন মানবধর্ম সম্পর্কে।

No comments:

Post a Comment